উখিয়া (কক্সবাজার), ১৭ এপ্রিল ২০২৬:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা-র রাজাপালং ইউনিয়নের টি অ্যান্ড টি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত উখিয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালটি ফান্ডের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মারাত্মক চিকিৎসা সংকটে পড়েছে।
২০২২ সালের মে মাসে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা UNHCR-এর অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ফ্রেন্ডশিপ।
হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা এবং আশেপাশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পেয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা প্রদান করায় অল্প সময়েই হাসপাতালটির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে।
তবে কিছুদিন পরই দাতা সংস্থা আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে হঠাৎ করে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে করে স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায় মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা, এনজিও কর্মকর্তা ও সমাজকর্মী মাহমুদুল হক জানান, “উখিয়ার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফান্ডের অভাবে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি চরম অবহেলার শিকার হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে এবং কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় সম্পদের অপচয় এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শামিল।
তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাসপাতালটি সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হোক অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে এর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হোক। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করে অবশিষ্ট সম্পদ রক্ষার দাবি জানান।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন, এই হাসপাতালটিকে সরকারি উদ্যোগে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা যেতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী-র হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এছাড়া দাতা সংস্থা UNHCR-এর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।