Kurigram Municipality-এর জাহাজমোড় ও আশপাশের এলাকায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্মাণকাজে ধুলোবালি ও ভোগান্তি চরমে পৌঁছালে মঙ্গলবার এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃতীয় শ্রেণির নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে খোয়া তৈরি করায় তা দ্রুত ভেঙে গুঁড়ো হয়ে ধুলায় পরিণত হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
জাহাজমোড় এলাকার বাসিন্দা সঞ্জু মিয়া বলেন, নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে প্রতিনিয়ত ধুলো উড়ে পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন অনেকে।
একই অভিযোগ করেন হরিকেশ এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, নিম্নমানের কাজ হলেও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার কমিশন বাণিজ্যের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি সড়ক নির্মাণ কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দাবি জানান।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী নুরজামাল জানান, ধুলোর কারণে ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেতা কমে যাওয়ায় এবং কর্মচারীদের অসুস্থতার কারণে তাদের কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলো নিয়ন্ত্রণের মতো মৌলিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার ইনসান আলী বলেন, ড্রেন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় সড়কের কাজ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। কাজ শেষ হলে ধুলো নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়ক নির্মাণ শেষ করতে হবে এবং কাজ চলাকালে দিনে অন্তত তিনবার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আইয়ুব আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। পৌর প্রশাসক বি.এম কুদরত-এ-খুদার ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে যদি অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়, তাহলে এর জবাবদিহি করবে কে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।