বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাহিরচর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী “স্থানীয় জাতের বীজ বৈচিত্র্য মেলা”। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ ও বারসিকের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলা গ্রামীণ জনপদে এনে দেয় উৎসবের ভিন্নমাত্রা এবং কৃষি সচেতনতার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাহিরচর গ্রামের বাসিন্দা লিমা আক্তারের বাড়ির উঠানে আয়োজিত এ মেলায় অংশ নেন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। তারা নিজ নিজ জমিতে উৎপাদিত দেশীয় ফসলের বীজ প্রদর্শন করেন। মেলায় প্রায় ৩০ প্রকারের স্থানীয় জাতের বীজ স্থান পায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পেঁয়াজ, রসুন, কালোজিরা, সরিষা, পালংশাক, ধনিয়া, সজিনা, রাধুনী, গম এবং আউশ ও আমন ধানের বীজ।
শুধু প্রদর্শনী নয়, মেলায় কৃষকদের মধ্যে বীজ বিনিময়ের কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়। এতে করে স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। কৃষকরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশীয় বীজের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ জেলা নারী উন্নয়ন কমিটির সদস্য লিমা আক্তার, অভিজ্ঞ কৃষক আমিনুল ইসলাম, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মুকতার হোসেন এবং সত্যরঞ্জন সাহা। বক্তারা বলেন, স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ কৃষি বৈচিত্র্য রক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও জানান, দেশীয় বীজ শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল হওয়ায় কৃষকদের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক। তাই এ ধরনের বীজ মেলা আয়োজনের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো সময়ের দাবি।
বাংলা নববর্ষকে ঘিরে এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, বরং কৃষকের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে গিয়ে কৃষকরা তাদের ঐতিহ্য, জ্ঞান ও সম্পদকে একত্রিত করে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।