যশোরের মণিরামপুর পৌরসভায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আইইউজিআইপি (IUGIP) প্রকল্পের আওতায় চলমান সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলায় স্থানীয় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে পুরো পৌর এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দুটি প্যাকেজের আওতায় ৯টি ওয়ার্ডে আরসিসি, ডিবিসি ও ইউনিব্লক পদ্ধতিতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ কাজই এখনো অসম্পূর্ণ বা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

প্রথম প্যাকেজের আওতায় ৬০৯,২০০ মিটার সড়ক পুনর্বাসন ও নির্মাণ এবং ৪টি স্থানে ২২৩১ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আকুঞ্জি মোড় থেকে তায়েরপুর, হাসপাতাল রোড থেকে কামালপুর এবং লাইব্রেরি থেকে ফাজিল মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কের কাজ আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসা রোডের ড্রেন নির্মাণ শুরু হলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

১ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনো কাজ শুরুই হয়নি বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয় প্যাকেজ (JGIP/MONI+DR/02/2023) অনুযায়ী ৩৭২৮ মিটার সড়ক সংস্কার এবং ৩০৪৫ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত থাকলেও এখানেও একই চিত্র। জয়নগর-জামতলা মোড়, পোস্ট অফিস মোড় ও বিজয়রামপুর এলাকায় কাজ আংশিকভাবে করে ফেলে রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে বাজার এলাকার কাপড় পট্টি, কাঁচাবাজার ও কলাই পট্টিতে ড্রেনের কাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

পৌর প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম প্যাকেজের ঠিকাদার শামীম চাকলাদার এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের ঠিকাদার মেসার্স কামরুল ইসলামকে ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক (PD) দুই দফা নোটিশ দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ড্রেন নির্মাণ অর্ধেক অবস্থায় থেমে আছে। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান দুটি প্রকল্প সন্তোষজনকভাবে শেষ না হলে তৃতীয় প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে না। তাই দ্রুত কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।