কুমিল্লা, ১২ এপ্রিল ২০২৬: কুমিল্লা নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকার ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে কুসিকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন। সভায় নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, অতীতে প্রশাসনিক কাঠামোয় দুর্নীতির প্রভাব ছিল, যার ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, গোমতী নদীর দুই তীরজুড়ে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণ করা হবে। পার্কের মাঝখানে একটি আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া লিবার্টি চত্বরকে পূবালী চত্বরের আদলে সম্প্রসারণ করে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ফোয়ারা স্থাপন করা হবে।

সভায় কুসিক প্রশাসন তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে। রাজস্ব খাতে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট আয় হয়েছে ৪১ কোটি ৩১ লাখ ৭২ হাজার ৬৪ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৮৬ টাকা। আগের স্থিতিসহ মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৬১ কোটি ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৪ টাকা, যার মধ্যে ব্যয় শেষে বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে ২৩ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭৮ টাকা।

উন্নয়ন প্রকল্পভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সিআইডিপি (ডিপিপি) প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ৯৭৭ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৫ টাকা, যার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৬৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭৭ টাকা এবং অবশিষ্ট রয়েছে ৩০১ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ১২৭ টাকা। এ অবশিষ্ট অর্থের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং ১১টি প্রকল্পে প্রায় ৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এলজিএসপিআরআরপি (কোভিড-১৯) প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ছিল ২৮ কোটি ৮২ লাখ ৪১ হাজার ২১০ টাকা, যার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৭৪ টাকা। এ প্রকল্পে অবশিষ্ট রয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৬ টাকা।

অন্যদিকে ইউডিসিজি প্রকল্পে মোট প্রাপ্তি ৭৩ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, যার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯১ টাকা এবং অবশিষ্ট রয়েছে ৩৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৯ টাকা।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট প্রাপ্তি হয়েছে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫১ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ১৪১ টাকা এবং অবশিষ্ট রয়েছে ৪৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ২১০ টাকা। ইতোমধ্যে ১০৯টি প্রকল্পে এই অর্থ ব্যয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।