সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহার-পত্নীতলা সীমান্তের কুচিন্দা খাড়ি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর এই দখল কার্যক্রম চললেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাপাহার-আগ্রাদ্বিগুণ সড়কের কুচিন্দা ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সরকারি খাড়ির জায়গা দখল করে কনক্রিটের পিলার ও ঢালাই দিয়ে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে খাড়ির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই খাড়িটি দিয়ে সাপাহার ও পত্নীতলা উপজেলার বৃষ্টির পানি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল প্রবাহিত হয়। কিন্তু বর্তমানে দখল ও অবৈধ নির্মাণের কারণে পানির গতিপথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে অন্তত ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, “এই খাড়িটা আমাদের এলাকার প্রাণ। বর্ষাকালে ভারতের পানি এবং স্থানীয় বৃষ্টির পানি এই পথ দিয়েই নেমে যায়। এখন যদি খাড়ি বন্ধ করে স্থাপনা তৈরি করা হয়, তাহলে আমাদের আবাদি জমি এবং বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাবে।”
আরেক বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল বলেন, “সরকারি জায়গা দখল করে প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রভাবশালীরা খালের ওপর কনক্রিট ঢালাই দিচ্ছে, অথচ প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি হবে।”
এদিকে, খাড়ি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা বাধার মুখে পড়েন। সাপাহার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি সাংবাদিক তছলিম উদ্দীনের সঙ্গে দখলকারী ব্যক্তি অশালীন আচরণ করেন এবং তথ্য সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাপাহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বাবুল আকতার বলেন, “সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দখলদারদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি খাড়ি দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানাই।”
এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ বলেন, “সরকারি খাড়ি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা বিষয়টি জেনেছি এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করে খাড়ির সীমানা নির্ধারণ এবং সরকারি জমি উদ্ধার করা হোক, যাতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমি ও জনবসতি রক্ষা পায়।