বিশেষ প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম

চট্রগ্রাম মহানগরের জিইসি মোড়ের একটি কনভেনশন সেন্টারে কনসার্ট চলাকালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. শরীফ (২৩) নামে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে কার গুলিতে শরীফ আহত হয়েছেন এবং গোলাগুলিতে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আহতের পাশাপাশি আরও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তার পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি কনভেনশন সেন্টারের মূল ফটক ভাঙচুরের চেষ্টা করছে। এ সময় ভেতরে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওই কনভেনশন সেন্টারে কনসার্টের আয়োজন করে। এতে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল আর্টসেল গান পরিবেশন করার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। সন্ধ্যায় কনসার্ট শুরু হলেও দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং সেন্টারে ব্যাপক ভাঙচুর ঘটে।

গুলিবিদ্ধ শরীফকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. নাঈম নামের এক তরুণ বলেন,

“কনসার্ট চলাকালে এক পক্ষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়, যারা ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে ছাত্রদলের কর্মীরা আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে।”

চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানান,

“গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা ও তাদের সঙ্গে আসা লোকজন সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না, ফলে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।”

এদিকে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের দেখতে হাসপাতালে যান চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম। তিনি বলেন,

“কনসার্ট চলাকালে আওয়ামী লীগের স্লোগানকে কেন্দ্র করে ভেতরে গণ্ডগোল হয়। কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাই হাসপাতালে এসেছি।”

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর জামান বলেন,

“ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। কারা জড়িত এবং কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত আছেন।”

ঘটনার পর কনসার্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।