চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক মা ও তার দুই বছরের শিশুকন্যার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকা থেকে সুমি আক্তার (১৯) ও তার দুই বছরের শিশু কন্যা ওয়াজিহার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত সুমির স্বামী মোঃ মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
জানা যায়, সুমি আক্তার কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী মিজান পটিয়া উপজেলার মালিয়ারা গ্রামের মোঃ মোহাম্মদ আলীর ছেলে। কয়েক বছর ধরে তারা পরিবারসহ গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাস করছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। সুমির ভাগ্নে পতি মোঃ এনামুল হক জানান, প্রায় এক বছর আগে পরিকল্পিতভাবে সুমি ও মিজানের বিয়ে হয়। সম্প্রতি স্বর্ণ বন্ধক রাখা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
তিনি আরও বলেন, বিকেলে মিজান ফোন করে জানায় যে সুমি ও তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মা ও মেয়ের লাশ ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পরে স্থানীয়দের ডেকে আনোয়ারা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর মিজান ও তার মা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে মিজানকে পাওয়া গেলেও তার মা এখনো পলাতক রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এদিকে নিহত সুমির মা হোসনে আারা বেগম অভিযোগ
করে বলেন, বিকেলে মিজান ফোন করে জানায় তার মেয়ে ও নাতনি মারা গেছে। ফোনে তিনি মেয়ের কান্নাজড়িত কণ্ঠস্বর শুনতে পান। পরে জানতে পারেন তারা মারা গেছে। তিনি দাবি করেন, তার মেয়ে ও নাতনিকে হত্যা করা হয়েছে এবং এ ঘটনার বিচার চান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ইদ্রিস জানান, সুমির স্বামী ফোন করে তাকে আত্মহত্যার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।