মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা সুরক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় মাটি, পানি ও বায়ুর গুরুত্ব নিয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রিন কোয়ালিশনের আয়োজনে এবং বারসিকের সহযোগিতায় শুক্রবার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিন মোল্লা ও শহীদ মোল্লা, নটাখোলা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের কৃষক এরশাদ মুন্সী, নারী সংগঠনের প্রতিনিধি আকলিমা বেগম এবং যুব টিমের সদস্য রমজান হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বারসিক হরিরামপুর প্রোগ্রাম অফিসার মুকতার হোসেন এবং নটাখোলা আফরোজা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন। কর্মশালা শেষে একটি ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি গঠন করা হয়।

কর্মশালার শুরুতে পরিবেশের ওপর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার মাটি, পানি ও বায়ুকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও দীর্ঘমেয়াদে হুমকির মুখে পড়ছে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, মানুষের অতিরিক্ত লোভ ও প্রকৃতির ওপর অবাধ হস্তক্ষেপের কারণে উদ্ভিদ, প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর, যা জলবায়ু ন্যায্যতার প্রশ্নও সামনে এনে দিচ্ছে।
বারসিক ২০১১ সাল থেকে হরিরামপুরের চরাঞ্চলে প্রান্তিক কৃষক, জেলে ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নদী-নালা ও জলাশয়ের পানি দূষিত হচ্ছে। এতে শামুক, কাঁকড়া, ব্যাঙ, কুঁইচা সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়া রাসায়নিক সার ও নিষিদ্ধ বিষ যেমন কার্বোফুরান ও গ্লাইফোসেট ব্যবহারের কারণে উপকারী পোকামাকড়, মৌমাছি ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষাক্ত উপাদান মানবদেহের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় আরও বলা হয়, নদীভাঙন, খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ দূষণ ও বনজঙ্গল ধ্বংস।
বক্তারা পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, যুবসমাজ, নারী-পুরুষসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা একমত পোষণ করে বলেন, পরিবেশকে ভালো রাখতে হলে মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষণমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য ক্ষতিকর কীটনাশক বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

গ্রিন কোয়ালিশন একটি সামাজিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কৃষি প্রতিবেশ চর্চা, খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সবুজ পৃথিবী গড়তে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।