আন্তজার্তিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অগ্রযাত্রা ও অর্জন উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি শক্তিশালী করেছেন। রাফিয়া আক্তার ডলি, কামরুননাহার ডানা, হামিদা বেগম, শামীমা সাত্তার মিমু, জোবেরা রহমান লিনু ও শারমিন আক্তার রত্নাসহ অনেকেই নারী খেলোয়াড়দের অধিকার ও সচেতনতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
বাংলাদেশে নারী ক্রীড়ার সূচনা ব্রিটিশ আমলে। ১৯৪৯ সালে মোহাম্মদপুর টাউন হল মাঠে প্রথম মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, শুটিং, ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় নারীরা দেশের জন্য স্বর্ণ ও খ্যাতি অর্জন করেছেন। সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, মাসুরা পারভীন, রোকেয়া বেগম খুকী, আফঈদা খন্দকারদের মতো খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।
জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন বলেন, “সীমিত সুযোগের মধ্যেও নারী ফুটবল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নতুন প্রজন্মের আগমন দেশের নারী ফুটবলের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করছে।” নারী ক্রিকেট, হকি, আর্চারি, ভারোত্তোলন, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, টেনিস ও কাবাডিতেও নারীরা দেশের সাফল্য নিশ্চিত করেছেন।
যদিও নিরাপত্তা, পারিশ্রমিক বৈষম্য এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এখনো বিদ্যমান, তবুও নতুন প্রজন্মের নারীরা সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র, সমাজ এবং ক্রীড়া প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে এই অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করা সম্ভব।