আব্দুল্লাহ আল মামুন | যশোর প্রতিনিধিঃ

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ, বেগুন, শসা ও লেবুসহ ইফতার সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

সরেজমিনে মণিরামপুর পৌর বাজার ও আশপাশের হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রমজান উপলক্ষে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা অধিক দামে পণ্য বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের অভিযোগ, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজার করতে আসা আব্দুর রশিদ বলেন, “বর্তমানে বাজারের অবস্থা অত্যন্ত অস্থির। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ তেমন নেই। আমরা সাধারণ ক্রেতারা খুব কষ্টে আছি। কাঁচাবাজারে সিন্ডিকেট থাকার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
আরেক ক্রেতা মোহাম্মদ আলী জানান, “রমজানে লেবু ২০-২৫ টাকা হালি থেকে বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৩০ টাকা থেকে ৬০-৭০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। আয় না থাকায় বাজার করতে সমস্যা হচ্ছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, চাহিদা ও সরবরাহের তারতম্যের কারণেই দাম বেড়েছে। রমজান শুরু হওয়ায় লেবু, শসা ও বেগুনের চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। লেবুর মৌসুম না থাকায় সরবরাহ কম, আর রমজানে বেগুনের চপের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বেগুনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, কাঁচামালে সিন্ডিকেট করা সম্ভব নয়। উৎপাদন কম হলে দাম বাড়বেই।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, “রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। পণ্য সঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কি না তা তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও চালু রয়েছে। অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকটের তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন আরও কঠোর নজরদারি জোরদার করবে এবং ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করবে।