মোস্তাফিজুর রহমান জীবন |
রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে একাধিক অভিজ্ঞ ও পরিচিত নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও তৃণমূল নেতাকর্মী ও নগরবাসীর একটি বড় অংশের সমর্থন তরুণ নেতা মাহফুজুর রহমান রিটনের দিকে ঝুঁকছে।

সরেজমিনে নগরের ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিবান্ধব, কর্মঠ ও গতিশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন।

অনেকেই মনে করছেন, সংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে মাহফুজুর রহমান রিটন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে পারেন।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে তিনি মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি এবং বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃণমূলের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে সমর্থকদের দাবি।
অন্যদিকে প্রশাসক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ২০১৩ সালে তিনি মেয়র নির্বাচিত হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তার সমর্থকেরা মনে করেন, প্রশাসক হিসেবে সুযোগ পেলে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নগর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ প্রশাসক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলেও সরাসরি লবিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দল যোগ্য মনে করলে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন। এছাড়া সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও নেতা আবুল কালাম আজাদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে দলীয় প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় রাসিকেও রাজনৈতিক সমীকরণ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভরশীল।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—যে-ই প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান না কেন, তিনি যেন নগর উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেন।