বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার বেতাগীতে দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর তালা ভেঙে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি টাঙানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে ছবি সরিয়ে ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পৌর মার্কেট এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় তারা দেয়ালে প্রথমে শেখ হাসিনার ছবি এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে দেন। একই সঙ্গে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে দলীয় সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সোমবার রাতেই একদল ছাত্র-জনতা কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ছবি সরিয়ে ফেলে বলে স্থানীয়রা জানান। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের দেয়ালে কোনো ছবির অস্তিত্ব নেই। মেঝেতে ভাঙা কাঁচ ও মালার ফুল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করেন, দীর্ঘদিন মামলা-হামলার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, একটি মহল আওয়ামী লীগের কিছু দুষ্কৃত ব্যক্তিকে ব্যবহার করে কার্যালয়ে ছবি টাঙিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বেতাগী উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামাল শামীম কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। পরে তারা ছবি টাঙিয়ে মালা পরান এবং সাইনবোর্ড স্থাপন করেন।

হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিফাত সিকদার বলেন, “১৮ মাস দেশ একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর দখলে ছিল। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২সহ স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে যাতায়াত শুরু করতে। তাঁর নির্দেশেই আমরা বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাই এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙাই।”

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, “উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে ছবি ও ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান বলেন, “আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই ছাত্রলীগ কার্যালয় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এতদিন দেশে গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে যেতে পারেননি। এখন গণতান্ত্রিক সরকার আসায় দলীয় কার্যালয় পুনরায় কার্যক্রমে আনা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর বেতাগী আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে তালাবদ্ধ করা হয়। এরপর থেকে অধিকাংশ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের অনেকেই পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন।