বরগুনা জেলা সংবাদদাতা |

বরগুনা-২ (পাথরঘাটা–বামনা–বেতাগী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম মনি তার বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতানের আনা অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করেন।

পাশাপাশি তিনি জানান, এর আগেই জামায়াত কর্তৃক সংঘটিত একাধিক নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সবসময় আইন ও বিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বে কখনো গুরুতর অভিযোগ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

নুরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করেন, গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বরগুনা-২ আসনে বহিরাগতদের বোরকা পরিহিত অবস্থায় প্রবেশ করিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে ভোটারদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে নির্বাচনের আগে অবৈধভাবে অর্থ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

এ ধরনের অনিয়ম রোধে নির্বাচনের সময় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত সমর্থিত সাইবার টিম ফেইক আইডি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ‘পাথরঘাটা.কম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এছাড়া তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এবং নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের দিন দুপুর ১২টার মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ করে কেন্দ্রে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং ভোট গণনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নুরুল ইসলাম মনি নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগকে এসব বিষয়ে সতর্ক থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।