অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে শ্রমিক ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
এই কর্মবিরতির ফলে জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম, বন্দর দিয়ে জাহাজের আগমন ও বহির্গমনসহ সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ডে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও যানবাহনের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। সব শেড ও অফিস ছিল বন্ধ।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এ কারণে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। সরকার চুক্তি বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও তিনি জানান।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, জোয়ারের সময় ছয়টি জাহাজ ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো জাহাজই বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। পাশাপাশি বহির্নোঙরে থাকা আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার সূচি থাকলেও পাইলটেজ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
শিপিং এজেন্ট ও ফিডার অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানান, আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত জেটিতে অবস্থান নিয়ে টাগবোট, পাইলট বোট ও মুরিং বোটের নোঙর ঠেকিয়ে দেন। ফলে পাইলটেজ কার্যক্রম একেবারেই চালু করা যায়নি।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন শিকদার বলেন, বন্দর ও দেশের ১৯টি বেসরকারি আইসিডির মধ্যে আমদানি, রপ্তানি ও খালি কন্টেইনার পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে করে বন্দর ইয়ার্ড ও আইসিডিগুলোতে কন্টেইনার জট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
বার্থ অপারেটরস ও শিপ-হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, এভাবে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়া নজিরবিহীন। তিনি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।