যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নে প্রশাসনের লিখিত অনুমতির শর্ত ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে ভারী যান চলাচলে স্থানীয় কাঁচা ও পাকা সড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
নেহালপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল বারিক মোল্লাকে নির্দিষ্ট শর্তে সীমিত পরিসরে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—মাটি বিক্রি করা যাবে না, বাণিজ্যিক পরিবহন করা যাবে না এবং রাস্তা বা স্থাপনার কোনো ক্ষতি করা যাবে না।
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে মাটি বহন করা হয়েছে, যার ফলে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে বিষয়টি বারবার জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কঠোর তদারকি হয়নি।
ভূমি অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাটি কাটা বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অবৈধ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, “শর্ত ভঙ্গের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল নোটিশ দিয়ে নয়, সরেজমিন অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে। নইলে এ ধরনের অপরাধ বারবার ঘটতেই থাকবে।