এ.এস.এম হামিদ হাসান |
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
পঁচা ও নোংরা রাজনীতি নয়, দেশের যুবসমাজ এখন প্রকৃত পরিবর্তন চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে চোরাইপথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনতার প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হতে হবে।”
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইডি হ্যাকের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পরও একটি রাজনৈতিক দল এটিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করছে, যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের নোংরা রাজনীতি জনগণ আর দেখতে চায় না।
তিনি বলেন, “পঁচা রাজনীতি নয়, ২৪-এর যুবসমাজ পরিবর্তন চায়। তারা বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে।”
নারী ইস্যুকে সামনে রেখে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ একটি কৃষিনির্ভর জেলা। এখানে শিল্পায়নের চেয়ে কৃষিকে কেন্দ্র করেই উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
“আমরা কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ কৃষিকে শিল্পে রূপান্তর করবো। দেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ফেরত আনা গেলে উন্নয়নের জন্য অর্থের সংকট থাকবে না,” বলেন তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন আর কোনো দুর্বৃত্ত ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের বাধা বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জামায়াতের সরকার চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের সরকার চাই।” জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী প্রফেসর ডা. কর্নেল জেহাদ খান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন, কৃষ্ণচন্দ্র বসাকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, উপজেলা মানবসম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি মাস্টার ওয়াহিদুল হক, যুব বিভাগের সেক্রেটারি মুস্তাকিম হাসানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সকাল থেকেই জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে লক্ষাধিক নেতাকর্মী জনসভায় অংশ নেন। জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকা বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।