ফারুকুর রহমান বিনজু |
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলডিপির প্রার্থী শিল্পপতি এম এয়াকুব আলীকে সমর্থন দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
জামায়াত, এলডিপি ও অন্যান্য শরিক দল নিয়ে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন বণ্টনের মাধ্যমে পটিয়া আসনটি এলডিপির জন্য নির্ধারিত হয়।
সে অনুযায়ী এলডিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান এম এয়াকুব আলী। তবে ঋণ খেলাপির অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থীতা বাতিল করলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এম এয়াকুব আলী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার প্রার্থীতা পুনর্বহাল করেন এবং প্রতীক বরাদ্দ দিতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
এদিকে, নির্ধারিত প্রচার শুরুর তারিখ ২২ জানুয়ারি থেকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে আসছিলেন।
এম এয়াকুব আলীর প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার পর স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল তৈরি হয়—জামায়াত নাকি এলডিপি, নাকি উভয় দলই নির্বাচনে অংশ নেবে।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জরুরি সভা আহ্বান করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল্লাহ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।
সভায় জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটের বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ডা. ফরিদুল আলম বলেন, “এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা দলের একক স্বার্থে নয়; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য নুরুল হক, মাওলানা আরিফুর রশিদ, আ ক ম ফরিদুল আলম, পটিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।