মোঃ একারামুল ইসলাম আশিক |
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় এক লাখ টাকার মাছ নিধন এবং টিনের ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ আশরাফুল ইসলাম লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের কিং বিদ্যাবাগিস এলাকায় ভুক্তভোগীর স্ত্রীর নামে রেকর্ডভুক্ত জমি নিয়ে পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের মোল্লার বাজার গ্রামের গোপীনাথ রায় (৫৫), তার স্ত্রী বিথী রানী (৫০), সধীর চন্দ্র রায় (৬৫) ও সুমন রায়ের মোঃ রশিদুল মেকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর স্ত্রীর মালিকানাধীন জমিতে থাকা একটি ৮ হাতি টিনের ঘর এবং জমিতে থাকা আমের গাছ জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে দুটি আমগাছ কেটে ফেলে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে বৈরাগী কুমোর মৌজার মোল্লার বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ভুক্তভোগীর ভোগদখলীয় ১৬ শতক জমির পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে পুকুরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠে, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক লাখ টাকা।

এরপর ২৭ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বায়নাকৃত জমিতে থাকা একটি টিনের চালা ভাঙচুর করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জীবন রক্ষার্থে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তরা ভূমিদস্যু ও দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির হওয়ায় তার ওপর গুরুতর হামলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত গোপীনাথ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিন বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”