কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জালিয়া পাড়ায় স্বামীর পৈত্রিক ভিটায় ঘর নির্মাণে বাধার মুখে পড়েছেন নুরুন্নবীর বিধবা স্ত্রী সুফিয়া। এ ঘটনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্বামীর আপন ভাই মো. নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সুফিয়া জানান, তার স্বামী নুরুন্নবী ও একমাত্র ছেলে দু’জনই মারা গেছেন। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর পর থেকেই দেবর মো. নিজাম উদ্দিন ও তার মেয়ের জামাই মিলে তার ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি স্বামীর পৈত্রিক ভিটায় মেয়েদের থাকার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করতে গেলে অভিযুক্তরা এতে বাধা প্রদান করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে অভিযুক্তরা তার ঘরে প্রবেশ করে আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা ও বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা একটি চিরকুট রেখে যায়, যেখানে মামলা করলে তাকে হত্যা করার এবং প্রয়োজনে জেল খাটার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস অনুষ্ঠিত হলেও অভিযুক্তরা কোনো সমাধান মানতে রাজি হয়নি। উপায় না পেয়ে সুফিয়া সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হন। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দেন এবং এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন। এ সময় হুমকির চিরকুটটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন জুয়েল বলেন, সুফিয়া স্বামী ও সন্তান হারিয়ে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার কোনো উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্য নেই। চারটি কন্যা সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মূলত মেয়েদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যই তিনি ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। আমরা একাধিকবার শালিস করেছি, কিন্তু অভিযুক্তরা তা মানেনি।
তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আদালতের মাধ্যমে আইনগত সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আইনের মাধ্যমে একটি ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই সমাধান হবে।