হুমায়ুন কবির |
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরীর বক্তব্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য শুনে হাজারো ত্যাগী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাহাদুর গ্রামে আশরাফ খান চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রাঙ্গণে বিএনপির বিদ্রোহী ‘হাঁস’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরীর বিশাল কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা খুররম খান চৌধুরীর সহধর্মিণী হাসিনা খান চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসিনা খান চৌধুরী বলেন, “আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় মানেই হবে নান্দাইলের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের জয়। এই জয় হবে সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জয়।”

তিনি আরও বলেন, নান্দাইলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং প্রয়াত খুররম খান চৌধুরীর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে হাঁস মার্কায় ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন নাসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, “আমি আমার মমতাময়ী মাকে আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে তুলে দিয়েছি।রাষ্ট্রীয় জটিলতার কারণে দেশে ফিরতে দেরি হলেও খুব শীঘ্রই আপনাদের মাঝে ফিরে আসব।”

তিনি তাঁর পিতা খুররম খান চৌধুরীর রাজনৈতিক ত্যাগ ও নান্দাইলবাসীর প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করলে পুরো সমাবেশ আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তারা হাত উঁচিয়ে হাঁস প্রতীককে বিজয়ী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নান্দাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও একাধিকবার কারাবরণকারী নেতা এ.এফ.এম আজিজুল ইসলাম পিকুল।

তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে নান্দাইলবাসীর মুক্তির দিন। হাসিনা খান চৌধুরীর বিজয় হবে রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের বিজয়।”

কর্মী সমাবেশে নান্দাইল পৌরসভা ও উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিএনপির ত্যাগী ও সুবিধাবঞ্চিত নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে হাঁস প্রতীকই হবে বিজয়ের মূল শক্তি।