পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত এক নির্মম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আজও এলাকাবাসীর হৃদয়ে ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি করছে। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নাজিমুদ্দিন মন্টু মুন্সিকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, নাজিমুদ্দিন মন্টু মুন্সি লক্ষ্মীপুর গ্রামের একটি বিএনপি সমর্থিত পরিবারের সন্তান। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিরীহ ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলেও এলাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধুমাত্র বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হওয়ার কারণেই তিনি তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হন। নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পরও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, হামলা ও জমি দখলের ঘটনা ঘটানো হয়।
এতে করে নিহতের পরিবারটি সর্বস্ব হারিয়ে আজ নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। নিহতের বাবা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে বাড়িতেই পড়ে আছেন। পরিবারে এখন উপার্জনক্ষম কোনো সদস্য না থাকায় তারা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছেন।
লক্ষ্মীপুর গ্রামের শতাধিক মানুষ একযোগে বলেন, নাজিমুদ্দিন মন্টু মুন্সি ছিলেন সম্পূর্ণ নির্দোষ। এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। তারা অবিলম্বে এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত পরিবারের রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণবাসনের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর মতে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংঘটিত এমন বহু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আজও বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। নাজিমুদ্দিন মন্টু মুন্সি হত্যার বিচার নিশ্চিত হলে তা গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য একটি শক্ত বার্তা ও প্রতীক হয়ে থাকবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।