লুৎফর সিকদার |
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জে ঔষধ প্রশাসনের তদারকির অভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নীতিমালা না মেনেই পরিচালিত হচ্ছে অসংখ্য অবৈধ ফার্মেসী।
এসব ফার্মেসীতে নেই কোনো সাইনবোর্ড, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঔষধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ভাউচার প্রদান কিংবা অনুমোদিত ফার্মাসিস্ট। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি করা হচ্ছে ঔষধ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ফার্মেসীতে রোগীর প্রয়োজন না বুঝেই ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা। প্রতারিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার উজানি বাজারে রুবেল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় ফার্মেসী পরিচালনা করে আসছেন। ওই ফার্মেসীতে নেই কোনো সাইনবোর্ড।
ভাঙাচোরা টিনের ঘরে কোনো ধরনের সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও নীতিমালা অনুযায়ী ফার্মেসী পরিচালনায় তার আগ্রহ নেই বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওই ফার্মেসী থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকার বেশি ঔষধ বিক্রি হয়ে থাকে।
এছাড়াও সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, সোনাকুড়, সিলনা, সাতপাড়সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে নীতিমালা না মেনে অসাধু ব্যবসায়ীরা ফার্মেসী পরিচালনা করছে। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য অবৈধ ফার্মেসীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে অজ্ঞাত কারণে এসব ফার্মেসীর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না ঔষধ প্রশাসন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক বিথী রানী মন্ডল বলেন, “জনবল সংকট, যানবাহনের অভাব এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে অবৈধ ফার্মেসীগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।”
সচেতন মহলের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত অবৈধ ফার্মেসীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।