ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও সহিংসতার পর দেশের পরিস্থিতি বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশি শক্তির ইন্ধনেই এই সহিংসতা ছড়িয়েছে।

তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আরাঘচি বলেন, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের হুমকিমূলক বক্তব্য সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করেছে, যার ফলে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী—উভয়ই হামলার শিকার হয়েছে। এতে বিদেশি হস্তক্ষেপের পথ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরাঘচি আরও জানান, রাস্তায় অস্ত্র বিতরণের ভিডিও ফুটেজ সরকারের হাতে রয়েছে এবং আটককৃতদের স্বীকারোক্তি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, এসব বিক্ষোভ বিদেশি উপাদান দ্বারা পরিকল্পিত ও ইন্ধনপ্রাপ্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তার দাবি অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো প্রথমে শান্তিপূর্ণ হলেও পরে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় তা ‘সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধে’ রূপ নেয়।

এদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—অহংকারী ও অত্যাচারী শাসকদের পতন অবশ্যম্ভাবী।

টানা চতুর্থ দিনের মতো ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে ইরানে। জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে সহিংসতা ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক পদক্ষেপের মতো বিকল্প বিবেচনা করছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।