লুৎফর সিকদার | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলায় বর্ষার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অবৈধভাবে কৃষি জমিতে ঘের কাটার কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি বছরে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়াই চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে।

এক্সকাভেটর মেশিন ব্যবহার করে ঘের কাটার ফলে পাশ্ববর্তী জমিগুলিও ক্রমশ ঘের তৈরির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, যা কৃষকদের ফসল উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।

সিংগা মধ্যপাড়া এলাকায় প্রায় ৬ বিঘা জমি ক্রয় করে চলতি মাসের শুরু থেকে ঘের কাটার কাজ শুরু করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কংশুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের জিলানী (২৪)। সরেজমিনে দেখা গেছে যথেষ্ট গভীরভাবে ঘের কাটা হচ্ছে, যা পাশ্ববর্তী জমির মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া অবৈধ ঘেরকাটা জমি থেকে পানি নিষ্কাশনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
কাশিয়ানি উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের ভুমি সহকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষি জমিতে অবৈধ ঘের বা মাটি কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বালু মহাল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন-২০১০ মোতাবেক এমন কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি জরিমানা এবং দুই বছরের জেল হতে পারে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ ধরনের শাস্তি প্রদান করা যায়। তিনি জানান, সিংগা মিয়াঝির কান্দি এলাকায় ঘের কাটার বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে জিলানিকে ঘের কাটতে নিষেধ করেছিলেন। তবে জিলানী তার ব্যক্তিগত জমিতে ঘের কাটার বিষয়ে জোরগলাট করেছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবৈধ ঘেরকাটা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চাষযোগ্য জমি হুমকির মুখে পড়ছে।