ফারুকুর রহমান বিনজু |
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের পটিয়া (১২) সংসদীয় আসনে বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে নতুন চমক সৃষ্টি করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল।

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক জেলা বিএনপি নেতা এনামুল হক এনামের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন।
পটিয়ার বিএনপির রাজনীতিতে গাজী শাহজাহান জুয়েল ও এনামুল হক এনামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য বিরোধ চলছিল। রাজনৈতিক কর্মসূচি, পাল্টা অবস্থান ও নির্বাচনী মাঠে দ্বন্দ্ব পটিয়ার রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে রেখেছিল।

একাদশ সংসদ নির্বাচনেও এর প্রতিফলন দেখা যায়। দলীয় সিদ্ধান্তে এনামুল হক এনাম মনোনয়ন পেলেও তা প্রত্যাহারের দাবিতে জুয়েল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।

সম্প্রতি গাজী শাহজাহান জুয়েল মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলে পটিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। কে হবেন বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী—জুয়েল না এনাম—এ প্রশ্নে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

তবে সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জুয়েল দলের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন ফরম জমা না দিয়ে এনামুল হক এনামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন।
গতকাল চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় নিজের বাসভবনে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গাজী শাহজাহান জুয়েল বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটিয়া আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী এনামুল হক এনামকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে সংসদে পাঠাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের ভুল-বোঝাবুঝি ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে এনামের পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে হবে। দলের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যই বিজয়ের প্রধান শক্তি—এ মন্তব্যও করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল জলিল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনাফ, জেলা বিএনপি নেতা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মাস্টার, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিয়া, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মনির, শফিউল আজম, মনছুর আমেরী, বখতিয়ার উদ্দিন বকুলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান পটিয়ার বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।