এ.এস.এম হামিদ হাসান | কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে দাখিলকৃত মোট ৬১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুসহ ২৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
গত শনিবার ও রবিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম), কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) আসনের ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এদের মধ্যে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, একই আসনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম মোল্লাসহ মোট ১০ জন।
এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপিতে নবাগত সৈয়দ এহসানুল হুদাসহ ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাতিল হওয়া ছয়জন হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল হোসাইন, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, রেজাউল করিম খান চুন্নু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়েতুল্লাহ হাদী এবং আহমদ আলী।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনে চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন—গণঅধিকার পরিষদের শফিকুল ইসলাম, বিএনএফের বিল্লাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দিন আহমেদ এবং ইসলামী আন্দোলনের আবুল বাসার রিজওয়ান।
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে বাতিল হওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আলমগীর ও জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, হলফনামা সঠিকভাবে পূরণ না করা, তথ্যের গরমিল, ঋণ খেলাপি হওয়া এবং এক শতাংশ সমর্থক ভোটারের তথ্য সঠিক না থাকায় এসব মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।