মোঃ হাফিজুল ইসলাম | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বার্ষিক ২০২৫ সালের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করেই শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি,এটি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক নির্দেশনা অনুযায়ী, বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ ঘোষণা এবং নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিতরণ করার নিয়ম রয়েছে।
অথচ কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসাটির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। তৃতীয় শ্রেণিতে ১ জন ও চতুর্থ শ্রেণিতে ১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে ৩২ জনের মধ্যে ৮ জন,ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪৬ জনের মধ্যে ১৩ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৩৩ জনের মধ্যে ৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।
নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জনের মধ্যে ২ জন এবং সাধারণ বিভাগে ৩৮ জনের মধ্যে ৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ৯ জনের মধ্যে ২ জন ও সাধারণ বিভাগে ৫ জনের মধ্যে ১ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।
বই বিতরণের দিন মাদ্রাসায় নতুন বই নিতে উপস্থিত ছিলেন ৫০ জনেরও কম শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
এক অভিভাবক বলেন, “আমার মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কয়েকদিন ধরে ফলাফলের জন্য মাদ্রাসায় আসছি, কিন্তু এখনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, “এখনো পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করা হয়নি। ফলাফল তৈরি করা সময়সাপেক্ষ, প্রস্তুত হলেই প্রকাশ করা হবে।”
এদিকে জানা গেছে, সুপার সাঈদুর রহমানের সামরিক বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও ভারপ্রাপ্ত সুপার দায়িত্ব ছাড়ছেন না। এছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম ও পাল্টা অভিযোগের জেরে প্রায় ছয় মাস ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ রয়েছে—এ বিষয়ে আগেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“প্রচণ্ড শীতের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকতে পারে। যারা উপস্থিত থাকবে, তাদের মাঝেই বই বিতরণ করতে হবে।”
অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “ফলাফল প্রকাশ না করে বই বিতরণের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের বিধান অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”