বিভাগীয় প্রতিনিধি, কক্সবাজার:

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় একটি অস্ত্র মামলা ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই লাখ টাকার বিনিময়ে এক নিরীহ সিএনজি চালককে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সূত্র জানায়, গত ১৩ অক্টোবর (সোমবার) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঈদগড়–বাইশারী সড়কের মাথা থেকে পাবলিক ছদ্মবেশে এক পুলিশ সদস্য সিএনজি ভাড়া নেন। কিছুদূর যাওয়ার পর পানির অজুহাতে গাড়ি থামিয়ে চালক জাফর আলমকে দোকানে পাঠানো হয়। ওই সুযোগে সিএনজির পেছনে অস্ত্র রেখে দেন ওই পুলিশ সদস্য।

পরে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া পুলিশের একটি দল এসে জাফর আলমকে আটক করে সিএনজির ভেতর রাখা অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে জোরপূর্বক তার হাতে তুলে দিয়ে ছবি তোলে।
এই ঘটনাটি ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকার আনু মিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে ঘটে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম, ওসির গানম্যান কনস্টেবল তানভীর ও কনস্টেবল মনির এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বক্তব্যে বিষয়টি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের ভিলিজারপাড়া এলাকায় জাফর আলমের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি একজন ভাড়াটিয়া সিএনজি চালক এবং এলাকায় সৎ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

জাফর আলমের স্ত্রী রাবেয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েদের ইভটিজিংয়ের ঘটনায় স্থানীয় বখাটে যুবকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিশোধ হিসেবে তার স্বামীকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুই লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটানো হয়।
ভুক্তভোগীর মেয়ে লীজা মনি জানায়,দীর্ঘদিন ধরে ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার কারণে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মামলার পর থেকেই বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তবে মামলার এজাহার ও বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ন্যাক্কারজনক। অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”