মোঃ হাফিজুল ইসলাম|ভূরুঙ্গামারী,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মডার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের কুঠিবাড়ি এলাকায় মডার চুরির ঘটনায় এক চোরকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আনিছের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনজন চোর মডার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল। তবে শাহ আলমের ছেলে সবুজ ও মনিরের ছেলে ফিরোজ সরকার পালিয়ে যায়। পরে আটককৃত খাইরুলকে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে ওয়ার্ড মেম্বার আনিছের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে আটককৃত চোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চোরের বাড়িতে জড়ো হয়ে উপযুক্ত বিচার না পাওয়ার প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে তারা চোরের বাড়ি থেকে চারটি গরু নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান রোপণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মডার দিয়ে সেচ দিয়ে চারা ফেলা হয়েছে। এ অবস্থায় ঘরের তালা ভেঙে মডার চুরি হওয়ায় তারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। এখনই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ধান রোপণের মৌসুমে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। চোরদের পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে যারা চোরদের ছেড়ে দিয়েছে, তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান কৃষকরা।

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তার দুটি মডার এবং ফুটবলযুক্ত একটি টিউবওয়েল চুরি হয়েছে। তিনি চোর ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে রয়েছেন। এক সপ্তাহে প্রায় ১৫টি মডার চুরির অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। রাতের ঘটনায় একজন আটক হলেও আনিছ মেম্বারের নেতৃত্বে অর্থের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। খাইরুল, সবুজ ও ফিরোজ সরকার এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ওয়ার্ড মেম্বার আনিছ বলেন, তিনি চুরির বিষয়টি জানেন এবং আটককৃত চোরকে ইউনিয়ন পরিষদে আনার পর রাত দুইটা পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। চুরির সঙ্গে ৩–৪ জন জড়িত বলে স্বীকার করলেও টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, কে বা কারা চোরকে ছেড়ে দিয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।