খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ ও খাদ্যপণ্যের মান, বাজারদর এবং ব্যবসায়িক অনিয়ম তদারকিতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহার, অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১ লাখ ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা মহানগরী, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খুলনা মহানগরীর সদর থানার গল্লামারী মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম।
এ সময় পাইলস পলিপাস ফিস্টুলা নিরাময় কেন্দ্রকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবহার ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে ওষুধের মেয়াদ, সংরক্ষণ ও বিক্রয়ব্যবস্থা নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই এলাকায় খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে শিকদার হোটেলকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের দায়ে ৪ হাজার টাকা এবং মোহনা গোল্ড প্লেট এন্ড কসমেটিকসকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আরাপপুর বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় ইমারত এন্টারপ্রাইজকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গার দামূড়হুদা উপজেলার বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের দায়ে রিমি ফুডকে ১০ হাজার টাকা এবং মুসলিম ফাস্ট ফুড এন্ড বেকারিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবনী মোড় বাজার এলাকায় সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে মোস্তফা বেকারিকে পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী, চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, বিভিন্ন সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়।
এ সময় ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি, মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের পণ্যের মোড়কে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ এবং খাদ্যপণ্য উৎপাদনে অনুমোদিত ও নিরাপদ প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে উল্লেখিত জরিমানার মোট পরিমাণ ১ লাখ ৬ হাজার টাকা।
ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং বাজারে পণ্যের ন্যায্য মূল্য বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া