নড়াইল | ২৭ আগস্ট ২০২৬: নড়াইলে তীব্র নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাজারখালি মহাশ্মশানসহ আশপাশের বসতবাড়ি। ইতোমধ্যে নদীভাঙনে মহাশ্মশানের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরেও দেখা দিয়েছে ফাটল। দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ সৎকার নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকার চিত্র। হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থাপনাটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় ভাঙন আরও তীব্র হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, তিন গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাজারখালি মহাশ্মশানে মরদেহ দাহ করে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নদীভাঙনে শ্মশানের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাত জায়গা নদীগর্ভে চলে গেছে। বসার স্থান ও চিতা তৈরির জায়গারও একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ভবিষ্যতে মরদেহ সৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আশপাশের বসতবাড়িও। স্থানীয় বাসিন্দা রেশমা বলেন, তার বাড়ির সামনেও এর আগে দুই দফা নদীভাঙন হয়েছে। বর্তমানে নতুন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার ভাঙন শুরু হলে তার বাড়িও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় সমাজসেবক আব্দুল কাদের পিন্টু বলেন, এ এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেই। এর মধ্যে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটিও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। তাই মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত নদীভাঙনরোধে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদীভাঙনরোধে জরুরি কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য একটি ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর নড়াইল জেলাজুড়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত নদীভাঙনরোধ করা না গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া