আশাশুনি, সাতক্ষীরা | ২৬ আগস্ট ২০২৬: গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক যে ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের গণ্ডি পেরিয়ে গভীর মানবিক বন্ধনে পরিণত হতে পারে, তারই হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত দেখা গেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়। হিন্দু গুরুর জ্বলন্ত চিতার পাশে বসে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের মুসলিম শিষ্য। আবেগঘন এ দৃশ্য উপস্থিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
মঙ্গলবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে আশাশুনি উপজেলার ফকরাবাদ গ্রামের প্রবীণ কাঠমিস্ত্রি শ্যামাপদ সরকার (৮৫) মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকে ভেঙে পড়েন দীর্ঘদিনের শিষ্য জোহর আলী গাজী। স্থানীয়ভাবে তিনি ঢালী মিস্ত্রি হিসেবে পরিচিত।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বুড়িয়া শ্মশানঘাটে শ্যামাপদ সরকারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এ সময় গুরুর চিতার পাশে বসে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষবারের মতো তাঁকে স্মরণ করতে দেখা যায় জোহর আলীকে।
দীর্ঘদিন গুরুর সান্নিধ্যে থেকে কাঠমিস্ত্রির কাজ শেখার মধ্য দিয়ে শ্যামাপদ সরকারের সঙ্গে জোহর আলীর গড়ে উঠেছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের গভীরতাই যেন গুরুর মৃত্যুর পর শিষ্যের চোখের জলে প্রকাশ পায়।
চিতার আগুনের পাশে মুসলিম শিষ্যের নীরব কান্নার দৃশ্যটি উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগের সৃষ্টি করে। সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো বিভাজন কিংবা জাতপাতের ভেদাভেদ স্থান পায়নি; বরং একজন গুরুর প্রতি তাঁর শিষ্যের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় পরিচয়।
হৃদয়স্পর্শী এই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন গণমাধ্যমকর্মী এসএম শরিফুল ইসলাম। ছবিটি দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও আবেগের সৃষ্টি হয়।
কোনো বক্তব্য, স্লোগান কিংবা আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়নি। গুরুর চিতার পাশে বসে একজন মুসলিম শিষ্যের অশ্রুই যেন নীরবে জানিয়ে দিয়েছে—ধর্ম যার যার, কিন্তু ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মানবতা সবার।
আশাশুনির এই ঘটনা তাই কেবল একজন প্রবীণ কারিগরের শেষ বিদায়ের ঘটনা নয়; এটি গুরু-শিষ্যের গভীর সম্পর্কের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া