কুড়িগ্রাম, উলিপুর | ১৩ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না করা এবং ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগে আদালতের কাজে অসহযোগিতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে তাকে তলব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) মোহাম্মদ নাজমুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর একটি মামলায় উলিপুরের বাসিন্দা ও কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
বাংলাদেশের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় চেকের অর্থ অপর্যাপ্ত থাকার কারণে চেক ডিজঅনার হলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, অথবা চেকের অর্থের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
আদালত সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্ত জাহিদ হাসান পলাতক থাকায় তার স্থায়ী ঠিকানা উলিপুর এবং কর্মস্থল লালমনিরহাট উল্লেখ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই পরোয়ানা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় উলিপুর থানাকে।
তবে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিশেষ করে আসামি নিজেই একজন কর্মরত পুলিশ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশে উলিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নে চরম অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৭ ধারায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি কেন বিবেচনা করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারায় কোনো সরকারি কর্মকর্তার আইনগত দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা না করার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। আদালতের আইনগত প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন বা কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সহায়তা না করার বিষয়টিও এ ধারার আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া আদালত অবমাননার অভিযোগে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে অবহিত করা এবং অসদাচরণ ও অদক্ষতার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়েও ওসির লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ আগস্ট সকাল ৯টায় ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
একই সঙ্গে আদালতের আদেশের অনুলিপি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার এবং উলিপুর থানার ওসিকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, তিনি এখনো আদালতের আদেশের কপি হাতে পাননি। আদেশের কপি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। কয়েকদিন আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে একজন কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
লালমনিরহাটে কর্মরত ওই কনস্টেবলকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো ত্রুটি থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আদালতের তলবের পর আগামী ৩০ আগস্ট ওসির দেওয়া ব্যাখ্যা এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে এখন নজর থাকবে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া