মানিকগঞ্জ, ১০ আগস্ট ২০২৬: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় সাংবাদিক ও স্কুলশিক্ষক দুই ভাইকে হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি চঞ্চল কুমার পালের জামিন বাতিল করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আপস-মীমাংসার শর্তে জামিনে বের হওয়ার পর বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস না করে পাল্টা মামলা দায়েরের বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর এ আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চঞ্চল কুমার পালের জামিন বাতিল করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে মামলার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ:
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী মৃত শ্যামল কুমার পালের ছেলে চঞ্চল কুমার পালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিক পিযুষ পাল ও তাঁর বড় ভাই স্কুলশিক্ষক পঙ্কজ পালের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চঞ্চল কুমার পাল তাঁর মা সরস্বতী রানী পাল ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে দুই ভাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা ধারালো ছুরি ও তারকাঁটাযুক্ত লাঠি ব্যবহার করে সাংবাদিক পিযুষ পালের মাথা, ঘাড় ও হাতে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছোট ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্কুলশিক্ষক পঙ্কজ পালকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দুই ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে পিযুষ পালের গলা থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
ঘটনার পর আহতদের বোন শিখা রানী পাল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় চঞ্চল কুমার পাল, তাঁর মা সরস্বতী রানী পালসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও লুটপাটের মামলা করেন।
আত্মসমর্পণের পর জামিন নামঞ্জুর:
মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর প্রধান আসামি চঞ্চল কুমার পাল গত ১৬ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ওই সময় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ তথ্যের সঙ্গে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনেরও মিল রয়েছে।
এরপর আসামিপক্ষ ‘পুটআপ’ আবেদন করলে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী শুনানিতেও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল বলে মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আপস-মীমাংসার প্রস্তাবে জামিন:
পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেন। আদালত বাদীপক্ষের অবস্থান জানতে চাইলে তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে থাকার কথা জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আপস-মীমাংসার জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত প্রধান আসামিকে জামিন দেওয়া হয় বলে মামলাসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জামিনে বের হয়ে পাল্টা মামলা:
তবে অভিযোগ রয়েছে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আসামিপক্ষ আপস-মীমাংসা না করে ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলার দ্বিতীয় আসামি সরস্বতী পাল বাদী হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুটি পাল্টা মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, এভাবে পাল্টা মামলা দায়েরের মাধ্যমে মূল মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আদালতের আদেশে আবার কারাগারে:
মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মঙ্গলবারের শুনানিতে আপস-মীমাংসার প্রতিশ্রুতি, পরবর্তী সময়ে পাল্টা মামলা এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রধান আসামি চঞ্চল কুমার পালের জামিন বাতিল করে তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
ন্যায়বিচারের দাবি:
প্রধান আসামির জামিন বাতিলের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে।
একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মামলাটির তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আইন অনুযায়ী চলমান রয়েছে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া