কুড়িগ্রাম | ১০ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাত্র ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের রায়গঞ্জ ব্রিজসংলগ্ন খামার আন্ধারীঝাড় কানিপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সহিদুল ইসলাম ওই এলাকার আব্দুল শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল শেখ ও শুক্কুর আলীর মধ্যে প্রায় ৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতেও বিষয়টি নিয়ে শুনানির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দুপুরে শুক্কুর আলীসহ কয়েকজন বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে হালচাষ করে রোপা আমন চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আব্দুল শেখের ছেলে সহিদুল ইসলাম ও তার স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এতে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিবারের দাবি, সংঘর্ষের সময় সহিদুল ইসলামকে মাছ ধরার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত কোঁচ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল এবং ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযানে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। এই বিরোধ আজ মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং একজন ব্যক্তি নিহত হন। আমরা বিবাদমান এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে মারামারি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।”
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পাওয়া গেলে মামলায় আসামির সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা সম্ভব হবে। স্থানীয় ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আরও দুই-তিনজন ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহত সহিদুল ইসলামের মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া