রংপুর | ১ আগস্ট ২০২৬: রংপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) ২০২৬ নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও প্রক্সি পরীক্ষার্থী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন স্ক্রিনশট, মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত জব্দ করা হয়েছে।
রংপুর জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর তত্ত্বাবধানে ৩১ জুলাই ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকে দায়িত্ব পালনকালে ডিবির একটি দল সন্দেহভাজন এক পরীক্ষার্থীকে আটক করে।
আটক ব্যক্তি মো. আশরাফুল ইসলাম (২১) একটি জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে একাডেমিক ভবনে নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদে প্রবেশপত্রটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত মো. তাজমিলুর রহমান (১৯)-কেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কামালকাছনা, রংপুর কার্যালয়ে কর্মরত মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮) এবং মো. নুরুল ইসলাম (৪৬) তার বাবার সঙ্গে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করেন। এ লক্ষ্যে আশরাফুলের পক্ষ থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে দিনাজপুর শাখার মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়।
পরে অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠায়। অথচ তিনি বিধি অনুযায়ী কোনো শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। এরপরও প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে মো. বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম আরও জানান, মো. নুরুল ইসলামসহ আরও ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিল। এছাড়া তারা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মোবাইলে ফোন দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভুয়া প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আরপিএমপির কোতোয়ালী থানার সহায়তায় ঢাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য মো. নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানা, আরপিএমপি, রংপুরে Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026-এর ৩/১৩ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪০৯, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৪, ১০৯, ১৭০ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রংপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। চাকরিপ্রত্যাশীদের দালাল বা প্রতারক চক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সরকারি নিয়ম অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া