ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে স্ত্রী ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা পরকীয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। মামলার বাদী মো. মুকবুল হোসেন আদালতে দাখিল করা হলফনামায় স্বীকার করেছেন, তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আপসের মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলায় স্ত্রী পুতুল আক্তারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে পরকীয়া, অর্থ আত্মসাৎ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় বাদী উল্লেখ করেন, মামলাটি ছিল মিথ্যা। তিনি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপসের ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
মামলার অভিযোগে বাদী দাবি করেছিলেন, প্রবাসে থাকাকালে স্ত্রীর কাছে পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং তিনি পরকীয়ায় জড়িয়েছেন।
অন্যদিকে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন পুতুল আক্তার। তার ভাষ্য, স্বামীর পাঠানো অর্থ দিয়ে তিনি পারিবারিক ঋণ পরিশোধ করেছেন এবং পরকীয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মিয়া বলেন, তিনি ঢাকায় বসবাস করেন এবং নিজ এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। বছরে কয়েকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এলাকায় গেলেও বাদী কিংবা তার স্ত্রীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু হানিফ জানান, মুকবুল হোসেনের স্ত্রীও পৃথক একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় আপসের শর্তে জামিনের আবেদন করা হলে শুনানিকালে আদালত জানতে চান, মুকবুল সংসার চালিয়ে যেতে চান কি না। তিনি সম্মতি দিলে আদালত তার দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা বলে হলফনামা দেওয়ার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন। পরে আদালতে হলফনামা দাখিলের মাধ্যমে জামিন গ্রহণ করা হয়।
বর্তমানে মামলাটি প্রত্যাহারের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া