নওগাঁ | ২৯ জুলাই ২০২৬: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি খাদ্যগুদামের জন্য চুক্তিবদ্ধ ১৬টি চালকলের কাছ থেকে কেজিপ্রতি ৪৯ টাকা দরে মোট ৩৫৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, চুক্তিবদ্ধ কয়েকটি চালকল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা অচল থাকলেও সেসব মিলের নামেই সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কয়েকটি চালকলের মালিক নিজেরা মিল পরিচালনা না করে অন্য ব্যক্তিদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। ভাড়াটিয়ারা সেখানে মূলত ধান শুকানো ও স্টক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে এসব চালকলের নামে সরকারি গুদামে সরবরাহ করা চালের প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি মিল সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের সুযোগ পেয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলএসডি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করেই বন্ধ বা অচলপ্রায় চালকলের নামে চাল গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি চালকল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্থানে নিয়মিত উৎপাদনের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। কোথাও চিমনির মাথায় ঘাস জন্মেছে, কোথাও মিল পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। অনেক স্থানে শ্রমিক, ম্যানেজার কিংবা উৎপাদন কার্যক্রমের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। আবার কিছু চালকল ভাড়া দিয়ে সেখানে স্টক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেসব চালকলে নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম নেই, সেসব চালকলের নামে সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা চাল কোথা থেকে এসেছে? এছাড়া ভাড়া দেওয়া মিলের নামে সরবরাহ করা চালের প্রকৃত উৎসও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভাই ভাই চালকলের মালিক আতাউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তাঁর মিলের জন্য ২১ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের বরাদ্দ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার ভাই ভাই চালকল, শেখ চালকল, আহসান হাবিব চালকল ও বিশ্বাস চালকলসহ মোট পাঁচটি চালকল সচল রয়েছে। ব্যবসায়িক মন্দার কারণে অন্য অধিকাংশ চালকল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিষয়টি নিয়ে বদলগাছী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক সময় চালকল বন্ধ থাকে। উৎপাদন না থাকলেও কীভাবে চাল সরবরাহ করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা কোথা থেকে চাল দেবে, সেটি তাদের বিষয়।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেই বরাদ্দ দিয়েছি। চাল কীভাবে দেবে, সেটা চাতাল মালিকেরা জানেন। আমরা চাল নিতে চাই।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি খাদ্যগুদামে চাল গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট মিলের বাস্তব উৎপাদন সক্ষমতা, মিল সচল রয়েছে কি না এবং সরবরাহকৃত চালের উৎস যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত ছিল।
তাদের মতে, কোনো চালকল যদি নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রম ছাড়াই সরকারি চুক্তির আওতায় চাল সরবরাহ করে থাকে, তবে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই বদলগাছী উপজেলার ১৬টি চুক্তিবদ্ধ চালকলের বরাদ্দ, উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহকৃত চালের পরিমাণ এবং চালের প্রকৃত উৎস নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া