মৌলভীবাজার | ২৩ জুলাই ২০২৬: অল্প কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল সবুজ ফসলের সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা এবং মৌসুমি সবজির খেতে কৃষকের পরিশ্রমের ফলন দেখে ছিল আশার আলো। কিন্তু আকস্মিক বন্যার পানিতে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেসে গেছে। বন্যার পানি কমে গেলেও কৃষকের জমিতে রয়ে গেছে কাদামাটি, বালু আর ক্ষতির গভীর চিহ্ন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে আবাদ করা ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায়, কেউ আবার নতুন করে আবাদ শুরু করার মতো পুঁজি সংকটে ভুগছেন। তবুও তারা হাল ছাড়েননি। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আশায় কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, কেউ নতুন বীজতলা প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর মৌসুমি সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম বলেন, ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তিনি।
একই এলাকার কৃষক তোফায়েল আহমেদ ও মজিদ খান জানান, তারা তিনজন মিলে প্রায় ১০ কিয়ার জমিতে টমেটো চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ এবং চারা রোপণ করেছিলেন। আকস্মিক বন্যায় পুরো খেত নষ্ট হয়ে তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পতনউষার ইউনিয়নের কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু এলাকার কারণে ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এখন ধানের ফলন হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আমনের বীজতলা হারানো কৃষক আব্দুল মন্না বলেন, বানের পানিতে তার পুরো বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে রোপা আমনের আবাদ করা নিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
অন্যদিকে কৃষক মরম আলী বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলেন। ফসল নষ্ট হওয়ায় সংসার চালানো এবং ঋণ পরিশোধ—দুই দিকেই তিনি বিপাকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা সম্পন্ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দ্রুত বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা, উন্নতমানের বীজ, সার এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আসন্ন আমন মৌসুমে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। বর্তমানে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন কমলগঞ্জের শত শত প্রান্তিক কৃষক।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া