অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনের কারণে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, এবারের বন্যায় জেলার চার উপজেলায় প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এসব অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ২৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
বন্যার পানির প্রবল স্রোতে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ, আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও রাস্তার ওপর বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও পানির তোড়ে রাস্তার অংশ ধসে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সড়ক সংস্কার না করলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ধীরেন্দ্র দেবনাথ বলেন, “ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের অবস্থা খুব খারাপ। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে গেছে, তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
এলজিইডি মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, “বন্যায় এলজিইডির প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।”
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত সড়ক মেরামতের মাধ্যমে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া