
চট্টগ্রাম | ১৮ জুলাই ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মইজ্জ্যারটেক এলাকায় সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অবৈধ টোকেন বাণিজ্য বন্ধ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক-বন্দর বিভাগ।
বন্দর ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কবীর আহমদের নির্দেশনায় এবং কর্ণফুলী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু সাঈদ বাকারের উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিএনজি অটোরিকশা চালক, মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মাঝে সচেতনতামূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী কিছু সিএনজি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে পুলিশের নাম ব্যবহার করে কথিত ‘টোকেন’ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চালক ও মালিকদের সতর্ক করতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১. পুলিশের নাম ব্যবহার করে কোনো সিএনজিতে টোকেন বিক্রি বা প্রদর্শন করা যাবে না। টোকেন বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের টোকেন প্রদর্শন করলে গাড়ি আটক করা হবে।
২. সিএনজি চালিত অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচলের জন্য টাকার বিনিময়ে কোনো ধরনের টোকেন গ্রহণ করা যাবে না। ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্ট করেছে, টোকেন প্রদানের সঙ্গে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
৩. নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করানো, সড়কে অটোরিকশা পার্কিং করে যানজট বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী গাড়ি আটক করা হবে।
৪. গ্রাম সিএনজি ও অনটেস্ট সিএনজি মহানগর এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও হালনাগাদ কাগজপত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে গাড়ি জব্দ করা হবে।
৫. ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মূল সড়ক, মহাসড়ক, উড়ালপথ কিংবা ব্রিজে উঠলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট গাড়ি আটক করা হবে।
কর্ণফুলী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ বাকার বলেন,
“সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। টোকেনের নামে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বৈধ নয়। কেউ যদি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতা ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা চাই কর্ণফুলী ও বন্দর এলাকার মহাসড়ক নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও যানজটমুক্ত থাকুক।”
বন্দর ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করেছি। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে পারলে দুর্ঘটনা ও অনিয়ম—দুটিই কমে আসবে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, টোকেন বাণিজ্য, অবৈধ যানবাহন চলাচল এবং সড়কের বিশৃঙ্খলা রোধে শুধু অভিযান নয়, চালক ও মালিকদের সচেতন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের বিশ্বাস, “টোকেন নয়, আইন মেনে চলুন” শীর্ষক এই সচেতনতামূলক প্রচারণা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, অবৈধ টোকেন বাণিজ্য বন্ধ করতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকায় সিএমপি ট্রাফিক-বন্দর বিভাগের উদ্যোগে সিএনজি চালক ও মালিকদের মাঝে সচেতনতামূলক পোস্টার বিতরণ করা হচ্ছে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া