কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) | ১২ জুলাই ২০২৬: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের ১০১ নং চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষক সংকটে ভুগছে।
সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বিদ্যালয়টিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৯ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মূল ভবন ও সামনের সড়ক উঁচু হলেও খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে পুরো মাঠ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র পথ হয়ে উঠেছে হাঁটুসমান পানি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সেই পানি ভেঙেই শ্রেণিকক্ষে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, নোংরা পানির কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় অনেকেই বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহী। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠে জরুরি ভিত্তিতে মাটি ভরাট করে সামনের সড়কের সমপর্যায়ে উন্নীত করা হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে।
জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে মানিকখালী হাজীবাড়ির আলহাজ ফজলুল হক মুকুল মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রয়োজনীয় জমি দান করেন। পরে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
তবে ২০১৮ সাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মাত্র চারজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। সে হিসাবে বিদ্যালয়টিতে অন্তত ছয়জন শিক্ষক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১:৬২.৫।
সরেজমিনে আরও জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রশাসনিক বা সরকারি কাজে উপজেলা সদরে যেতে হলে মাত্র তিনজন শিক্ষকের ওপর ২৫০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পড়ে, যা কার্যত অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ নাজনিন সুলতানা মুন্নি বলেন, "জরুরি ভিত্তিতে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় সহকারী শিক্ষক আমাদের বিদ্যালয়ে দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। শত কষ্টের মাঝেও আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।"
এলাকার একাধিক অভিভাবক দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। তারা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে যেসব বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতা বা অন্যান্য কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া