ইরানের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, খামেনিকে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম রেজার মাজারে সমাহিত করা হয়। একইসঙ্গে তার পরিবারের আরও চার সদস্যকেও দাফন করা হয়েছে।
দাফনের আগে টানা ছয় দিন ধরে ইরানের চারটি শহরে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদের প্রধান সড়কে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মরদেহ বহন করা হয়। শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, আলী খামেনির প্রতিকৃতি এবং বিভিন্ন বিপ্লবী স্লোগানসংবলিত ব্যানার।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আলী খামেনি ইরানের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সমর্থকদের কাছে তিনি ইসলামী বিপ্লবের আদর্শের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও সমালোচকদের কাছে ছিলেন বিতর্কিত শাসক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার চার মাস পর গত ২ জুলাই প্রথমবারের মতো তার মরদেহবাহী কফিন জনসমক্ষে আনা হয়। পরে বিদেশি প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে মরদেহ রাখা হয় এবং ৬ জুলাই আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৭ জুলাই মরদেহ শিয়া ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হয়।
এদিকে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ধর্মীয় পরিষদের সিদ্ধান্তে আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। লিখিত বিবৃতি দিলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। তেহরানের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হামলায় আহত হওয়ায় তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণেও তাকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া