পঞ্চগড় | ৭ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বিনামূল্যে দেওয়া পাঠ্যবই কিন্ডারগার্টেনগুলোতে সরবরাহকে কেন্দ্র করে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক ও পরিচালকদের দাবি, সরকারি বই পেতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত কর্মচারী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা প্রশাসন অভিযোগ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে দেবীগঞ্জ উপজেলার ১৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তালিকাভুক্ত ৩৫টি কিন্ডারগার্টেনে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান, সরকারি বই পেতে তাদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত অর্থ না দিলে বই সরবরাহে বিলম্ব করা হয় এবং বিভিন্ন অজুহাতে বই আটকে রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের সময়মতো বই পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থে বাধ্য হয়ে তারা অর্থ দিয়ে বই সংগ্রহ করেছেন বলে দাবি করেন।
ভাউলাগঞ্জ আলহেরা ইসলামী কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত তাদের বিদ্যালয় দীর্ঘদিন শুধুমাত্র পরিবহন ব্যয় দিয়ে সরকারি বই সংগ্রহ করলেও ২০২০ সালের পর থেকে অর্থ ছাড়া বই পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি অভিযোগ করেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে তাদের কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে বই সংগ্রহ করতে হয়েছে। তার দাবি, শিক্ষা অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী বাবুর মাধ্যমে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে।
স্কলার কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বই সংগ্রহে তাকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মাধ্যমে কাজ করতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মর্ডান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বাবু বলেন, উপজেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো তারাও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকেই সরকারি বই সংগ্রহ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, গ্রামাঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করলেও বই সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হওয়ায় আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়ছেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, "বই বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযোগে নাম আসা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী বাবুও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, "অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এ ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উদ্বেগজনক হবে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া