কিশোরগঞ্জ | ৭ জুলাই ২০২৬: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জালালপুর-লোহাজুরী সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন থাকায় প্রায় দুই লাখ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই সিএনজি অটোরিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, সড়কটি এখন যেন "মরণফাঁদে" পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি বিন্নাবাইদ, চরমান্দালিয়া, গোহালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পাইকারি বাজারে পৌঁছাতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ অংশে পিচ-খোয়া উঠে গেছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, যা বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকায় যানবাহন চালকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে ভাঙা ইট ফেলে দায়সারা মেরামত করা হলেও তা কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয়দের মতে, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের অনেকেই ভাঙাচোরা সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনেও সৃষ্টি হচ্ছে বিলম্ব।
লোহাজুরী রুটের অটোরিকশা চালক জামাল মিয়া বলেন, "রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সপ্তাহে অন্তত দুইবার গাড়ি গ্যারেজে নিতে হয়। চাকা, সাসপেনশন ও বডির ক্ষতি হয়। বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা অসন্তুষ্ট হন। ফলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।"
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গণপরিবহন চলাচলও কমে গেছে। এর সুযোগে কিছু যানবাহন চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে হেঁটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে।
এই সড়কের পাশেই কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার অবস্থিত। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত সবজি পরিবহনের প্রধান রুট হওয়ায় রাস্তার বেহাল দশা সরাসরি কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সময়মতো বাজারে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারদের অনেকেই এখন এই সড়ক ব্যবহার করতে অনাগ্রহী।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক বছরের পর বছর সংস্কারহীন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত টেকসই কার্পেটিং ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দায়সারা মেরামতের পরিবর্তে দ্রুত টেকসই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া