
বরগুনা জেলার উপকূলীয় উপজেলা আমতলী থেকে তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়
কটির বেহাল অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বড় অংশ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য খাত এবং পর্যটন শিল্প।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর মানিকঝুড়ি থেকে তালতলীর ফকিরহাট পর্যন্ত সড়কটির অন্তত ২৪ কিলোমিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পিচ, ইট ও খোয়া উঠে গিয়ে বহু স্থানে সড়ক মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার, কড়ইবাড়িয়া বাজার থেকে হরিণবাড়িয়া সেতু পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবং ব্রিজঘাট সেতু থেকে ফকিরহাট পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্ত ডোবায় পরিণত হয়। ফলে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ও মাহিন্দ্রাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে আমতলী থেকে তালতলী যেতে সময় লাগত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। বর্তমানে একই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। জরুরি রোগী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ভাষ্য, ভাঙা সড়কে অতিরিক্ত ঝাঁকুনির কারণে রোগীদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
এদিকে সড়কের দুরবস্থার কারণে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারে পণ্যের দামের ওপর।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, তালতলীর অন্যতম আকর্ষণ শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, নিদ্রারচর, আশারচর ও সোনাকাটা ইকোপার্কে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। কিন্তু সড়কের ভয়াবহ অবস্থার কারণে পর্যটকদের আগ্রহ কমে গেছে। এতে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র সোনাকাটা এবং ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় সময়মতো মাছ ও সামুদ্রিক পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজের ধীরগতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। কোথাও কোথাও কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের পিচ উঠে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, আমতলী-তালতলী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশসমূহ সংস্কারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, জোড়াতালি নয়; বরং উপকূলীয় অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসই ও মানসম্মতভাবে পুনর্নির্মাণ করে যোগাযোগ, পর্যটন এবং অর্থনীতির চাকা সচল করতে হবে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া