চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ২১ মে ২০২৬ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, টাকার লেনদেন ও কানের দুল বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সুমাইয়া আক্তার সুমি (২৮), তার স্বামী রুবেল হোসেন (৩৫), শ্বশুর আনোয়ার হোসেন (৫৫) এবং দীপক সাহা (৩৫)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঠের বাটাম, এক জোড়া কানের দুল এবং নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-৪৪, তারিখ ১৯ মে ২০২৬, জিআর নং-২২৮/২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলাটি রুজু করা হয়।
গত ১৯ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন ঘটনাস্থলে যান। পরে নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়া এলাকা থেকে মরিয়ম বেগম (২৮) নামে এক গৃহশিক্ষিকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত মরিয়ম বেগম দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে সুমাইয়া আক্তার সুমির মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন।
গত ১৮ মে সকালে প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে মরিয়ম বেগম অর্থ সংকটের কথা বলে টাকা ধার চান। পরে নিজের কানের দুল বিক্রি করে টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব দেন। অভিযোগ রয়েছে, সুমি ওই দুল দীপক সাহার কাছে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং সেখান থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করেন।
একই দিন বিকেলে মরিয়ম বেগম টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমি ঘরের ভেতরে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে মরিয়ম বেগমকে আঘাত করেন। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে প্রথমে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে মরদেহ দুটি চটের বস্তায় ভরে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। রাতে বিষয়টি সুমি তার স্বামী ও শ্বশুরকে জানান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়া আক্তার সুমি ও দীপক সাহা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে সুমি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মো. বেল্লাল হোসেন মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া