রাজশাহী মহানগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক ভবন থিম ওমর প্লাজা দখল, সশস্ত্র হামলা ও কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে।
থিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিফা হক চৌধুরীর অনুমতিক্রমে প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল অ্যান্ড এস্টেট অফিসার আসাদুল হক গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বোয়ালিয়া থানা আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন— জাকিরুল ইসলাম (৩৮), সুমন কুমার সরকার (৩৫), আব্দুল আওয়াল (৪০) ও মো. রায়হান হোসেন (৩২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮–১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি সুমন ও আব্দুল আওয়াল থিম ওমর প্লাজার সাবেক কর্মচারী ছিলেন। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অন্যদের নিয়ে দখল ও লুটপাটের পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে আসামিরা পিস্তল, লোহার রড, হাসুয়া ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্লাজার সপ্তম তলায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় একাউন্টস অফিসার মো. ইউসুফ আলী ও লিগ্যাল অফিসার আসাদুল হককে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে তাদের মোবাইল ও ল্যাপটপ কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং অফিসের ড্রয়ার ও লকার ভেঙে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ টাকা লুট করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামিরা মার্কেট ও অফিস দখলে রাখে। এ সময় বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল বাবদ ১ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৩৩০ টাকা লুট করা হয়। পাশাপাশি দোকান ভাড়া ও জামানত বাবদ জোরপূর্বক আরও ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৫১৬ টাকা আদায় করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, দখলকালে আসামিরা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ও দাপ্তরিক নথিপত্র নষ্ট করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে।
এছাড়া ১৪ জানুয়ারি ভবনের নবম তলার ‘পেন্ট হাউজে’ হামলা চালিয়ে গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করা হয়। সেখান থেকে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ ও মূল্যবান এন্টিক সামগ্রী লুট করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বাদী জানান, ঘটনার পর ১৪ জানুয়ারি বোয়ালিয়া থানায় অনলাইনে জিডি (নং–AS0560) করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। আদালত দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আসামি সুমন কুমার সরকার ও আব্দুল আওয়াল বলেন, তারা মামলার বিষয়ে অবগত নন এবং অভিযোগ সত্য নয়। তাদের দাবি, বিনা কারণে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে পিবিআই রাজশাহীর এসপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © সারাদেশ একাওর নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়া