আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্লাস্টিকের আধিপত্যে ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে নওগাঁর সাপাহারের ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেতের কারুশিল্প। একসময় গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও বর্তমানে এই কুটিরশিল্প প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় ও মাঠে বেতগাছ দেখা যেত। এসব কাঁচামাল দিয়ে কারিগররা তৈরি করতেন খোল, চাটাই, খলুই, ধামা, টোনা, পাল্লা, মোড়া, বুক সেল্ফ, ঝাড়নি ও চালনসহ নানা গৃহস্থালি সামগ্রী। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বসতবাড়ির প্রসারের কারণে বাঁশঝাড় কেটে ফেলা হচ্ছে, ফলে কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও মেলামাইনের সস্তা ও টেকসই পণ্যের কারণে বাঁশ-বেতের পণ্যের চাহিদা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারাও আগ্রহ হারাচ্ছেন।
উপজেলা সদরের মহুরীপট্টি এলাকায় এক ক্রেতা বলেন, “খইচালা কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু দাম শুনে কিনতে সাহস পাইনি।”
বাঁশ-বেতের কারিগর নারান টপ্য বলেন, “বেতের কাজ এখন প্রায় নেই। শুধু কিছু বাঁশের জিনিস বানাই, কিন্তু বাজারে ক্রেতা কম। বাঁশের দাম বেশি হওয়ায় পণ্যের দামও বাড়াতে হয়।”
বিক্রেতা খগেন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা করছি, কিন্তু চাহিদা না থাকায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, বাঁশ ও বেতের উৎপাদন বাড়ানো এবং কারিগরদের সহায়তা দেওয়া না হলে এই ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে শুধুই ইতিহাস হয়ে থাকবে।
ওয়েবসাইটঃ www.saradesh71.com, নিউজ রুমঃ news@saradesh71.com
কপিরাইট স্বত্ব © জাতীয় দৈনিক সারাদেশ ৭১